গুডফ্রাইডে কেন পালন করে || Happy Good Friday

গুড ফ্রাইডে কি ? গুডফ্রাইডে কেন পালন করে ?

Good Friday :- খ্রিস্টান ধর্মীয় মানুষেরা বিশ্বাস করেন।প্রভু যিশুকে গুড ফ্রাইডের দিনেই ক্রুশবিদ্ধ করে মারা হয়েছিল। এবং তিন দিন পরে প্রভু  যিশু বেঁচে ওঠেন। এটা হলো গুড ফ্রাইডের (Good Friday), মূল কথা। গুডফ্রাইডে কেন পালন করে ?

নিচে 👇 গুডফ্রাইডে কেন পালন করে (Happy Good Friday), কিছু কথা তুলে ধরা হয়েছে। যেমন —
 
— প্রভু যিশুর কিছু মূল্যবান বাণী। 
— গুড ফ্রাইডে কাদের উৎসব ?
— কেন পালন করা হয়,গুড ফ্রাইডে ?
— গুড ফ্রাইডে শব্দের মধ্যে ‘গুড’ শব্দটি মানে কি ?
— গুড ফ্রাইডে কি ?
 
 

গুড ফ্রাইডে কাদের উৎসব  ?

– গুড ফ্রাইডে (Good Friday) খৃষ্টান ধর্মী বিশ্বাসী মানুষদের উৎসব। এই উৎসবের নাম অনেকেই হোলি ফ্রাইডে (Holy Friday), গ্রেট ফ্রাইডে (Great Friday), ইস্টার ফ্রাইডে (Ester Friday) বলে।  অনেকে আবার এই দিনটিকে ব্ল্যাক ফ্রাইডেও (Black Friday) বলে। 
 
গোটা বিশ্বের খ্রিস্টান ধর্মাম্বলী মানুষ ১৯ এপ্রিল গুড ফ্রাইডে পালন করে। গুড ফ্রাইডে কেন পালিত হয় ? খৃষ্টান ধর্মী বিশ্বাসী মানুষেরা। বিশ্বাস করেন এই দিন যিশু খ্রিষ্টের ক্র‌ুসবিদ্ধ করণপর প্রভু যিশুর মৃত্যু হয়। 
 

কেন পালন করা হয় গুড ফ্রাইডে ?

গুড ফ্রাইডে বিশেষ গুরুত্ব হলো, এই দিন প্রভু যিশু খ্রিস্টকে ক্রুশবিদ্ধ (crucifixion of Jesus Christ) করা হয়। এই দিনকে প্রভু যিশুর মৃত্যুদিন হিসেবেই স্মরণ করা হয়। 

 
 
তিন দিন পরে প্রভু যিশু আবার বেঁচে ওঠেন – যা ইস্টার হিসাবে চিহ্ন হিসাবে মনে করা হয়। শুক্রবার, শনিবার ও রবিবার এই ৩ দিন ইস্টার ট্রাইডাম (Easter Triduum) নামে প্রভু যিশু ডাকা হয়। 
 

এই গুড ফ্রাইডে শব্দের মধ্যে ‘গুড’ শব্দটি মানে কি ?

গুড ফ্রাইডে শব্দের মধ্যে ‘গুড’ শব্দটি মানে পবিত্র অর্থ বহন করে। বিশ্বের অনেক দেশেই গুড ফ্রাইডে একটি ছুটির দিন। 
 

— গুড ফ্রাইডে কি ?

যিশু খ্রিষ্টের মৃত্যু সমস্ত মানবজাতির পাপের বিরুদ্ধে এক মৃত্যু ও ক্ষমার প্রতীক। বিশ্বাস করা হয়, যিশু সমস্ত মানুষের মঙ্গলের জন্য চূড়ান্ত বলিদান গ্রহণ করেন। 
 
 
প্রভু যীশু সমাধি মন্দির থেকে পুনরুজ্জীবন হয়। সেই সময় থেকে – প্রভু যীশু খ্রিষ্টের পুনরুজ্জীবন স্মরণে গুড ফ্রাইডে উৎসবে পালিত হয়ে আসছে। 
 
এই পবিত্র সপ্তাহে ইস্টার রবিবারের আগে, শুক্রবার প্যাস্কাল ট্রিডামের অংশ হিসেবে। গুড ফ্রাইডে উৎসব পালিত হয়।
 
 
যিশুর বিচারের বিবরণ থেকে জানা যায়। যে তাঁকে সম্ভবত শুক্রবার শাস্তি হিসাবে ক্র‌ুসবিদ্ধ করা হয়েছিল। আলাদা আলাদা  দুটি গোষ্ঠীর মতে – গুড ফ্রাইডের বছরটি আনুমানিক ৩৩ খ্রিস্টাব্দ ছিল।
 
প্রভু যীশুকে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা ক্রুশবিদ্ধ যন্ত্রণাভোগ করেন। দিনের শেষ তিন ঘণ্টা মানে (দুপুর তিনটে থেকে) সেই সমগ্র অঞ্চলটি অন্ধকারে ঢেকে যায়। অবশেষে প্রভু যিশু মৃত্যু হয়। 
 
সেই সময় সেই সমগ্র অঞ্চলটি ভূমিকম্প হয় এবং সমাধি প্রস্তর গুলি ভেঙে যায়। এবং প্রধান মন্দিরের পর্দা উপর থেকে নিচ অবধি ছিঁড়ে যায়। সেই সময় যে সেঞ্চুরিয়ন ক্র‌ুসবিদ্ধ করার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি সে সময় চিৎকার করে বলে। ইনি সত্যি সত্যি ঈশ্বরপুত্র ছিলেন।
 
প্রভু যিশুর দেহ আরিমাথিয়ার যোসেফ পরিষ্কার ক্ষৌমবস্ত্রে মুড়ে। যেখানে ক্র‌ুসবিদ্ধ করে ছিল, তাঁর পাশে একটি বাগানে তাঁর নিজের জন্য নির্মাণ করা প্রস্তরখোদিত সমাধি মন্দিরে প্রভু যিশুর দেহ রেখে দিলেন।
 
নিকদিম এলেন সোয়া মণ গন্ধরস মেশানো অগুরু নিয়ে। ইহুদি সৎকার প্রথা অনুযায়ী সেগুলি রেখে দিলেন আচ্ছাদন বস্ত্রে যিশুর দেহের সঙ্গে। আর একটি বড় পাথর দিয়ে তাঁরা সমাধির মুখ রুদ্ধ করে দিলেন। সূর্যাস্তের সাথে সাথে সাব্বাথ শুরু হয়ে যাবে বলে তাঁরা শীঘ্র ঘরে ফিরে আসেন। তৃতীয় দিন, মানে রবিবার, যিশু পুনরুজ্জীবিত হন। 
 

কি ভাবে গুড ফ্রাইডে পালন করে ?

গোটা পৃথিবীর মানুষ, এই দিনটিকে শোকের দিন হিসাবেই পালন করে। এই দিন বেশির ভাগ মানুষ উপবাস থাকেন। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন, প্রভু যিশুকে স্মরণ করার একটি বিশেষ দিন। এই দিন দুপুর থেকে ৩ টা পর্যন্ত সবাই গির্জায় সমবেত হন। 
প্রভুকে স্মরণ করার সময়,মূর্তির দেহ থেকে সব সজ্জা সরিয়ে দেওয়া হয়। এই দিনে যাজকও কালো পোশাক পড়েন। 

প্রভু যিশুর  কিছু মূল্যবান বাণী

যিশু খ্রিস্টের সেরা ২০টি বাণী ভালো লাগলে আপনিও শেয়ার করতে পারেন। 
 
(১)
যিশু বলেছেন – শত্রুকেও ভালোবেসো এবং তাদের মঙ্গোল করো।
 
 
(২)
যথা সাধ্য দান করো,
দেখবে প্রতিদানে তুমিও পাবে,
 আর তুমি যেমন দান করবে, ঠিক ততটুকু ফেরত পাবে।
 
(৩)
অন্যের বিচার করো না, 
তাহলে তুমিও কোনোদিন বিচারিত হবে না। 
 
(৪)
যারা কান্না করে.
 তাদের মুখে যে হাঁসি ফুটবে, সে ধন্য। 
 
(৫)
যদি কেউ তোমার কিছু জিনিস নেয়,
সেটা আর ফেরত চেও না।
 
(৬)
একজন অন্ধ 
আরেক জন অন্ধকে, কোনো সময় পথ দেখতে পারে না। 
পথ দেখানোর চেষ্টা করলে দুজই গর্তে পড়বে।
 
(৭)
কাউকে দোষ দিবে না,
দেখবে – তুমিও কোনো দিন দোষী হবে না। 
 
(৮)
যদি কোনো দিন ধার দাও,
তাহলে ফেরত পাবার কথা না ভেবে ধার দাও !
বিনিময়ে হয়তো তুমি মহা পুরস্কার পাবে।
 
(৯)
তুমি যদি কাউকে ক্ষমা করো,
দেখবে তুমিও ক্ষমা পাবে। 
 

প্রভু যিশুর বাণী

 
(১০)
যদি কেউ ভিক্ষা চায়.
তবে তাকে অবশ্যই কিছু দিও !
 
(১১)
যে মানুষেরা তোমাকে ভালবাসে,
তুমি যদি শুধু তাদেরকেই ভালোবাসো !
তাহলে তোমার কৃত্বিত কোথায় ? 
পাপীরাও তো সে রকমটাই করে।
 
(১২)
দুঃখ কষ্ট সবার জীবনে আসে,
 তাই কষ্টকে কখনো ভয় বা ভীতির সাথে – জীবনে গ্রহণ করো না। 
 
 
(১৩)
ভয় করো না – আমি সর্বদা তোমার সাথে আছি। 
 
 
(১৪)
প্রভু বলেন, যদি কোনো মানুষ আমাকে ভালোবাসে ও বিশ্বাস করে। আমি তাকে রক্ষা করবো। এবং আমার অনুগামীরা – যারা আমার নাম উপাসনা করে, তাদের আমি রক্ষা করবো। 
 
(১৫)
মন্দের কাছে হেরে যেওনা,বরং ভালো দিয়ে মন্দকে জয় করো।
 
 
(১৬)
জীবনে যত বড়ো মানের মানুষ হবে,
ঠিক ততটাই বুঝতে পারবে। 
কোনো কিছু নিয়ে তর্ক করার থেকে,
নীরব থাকা অনেক শ্রেয়। 
 
 
(১৭)
প্রত্যেক মানুষই ঈশ্বরের সন্তান,
অন্যকে দয়া করো। ঈশ্বর তোমাকে দয়া করবেন। 
অন্তর পবিত্র রাখো,ঈশ্বরের স্পর্শ পাবে। 
 
 
(১৮)
ঈশ্বর যখন আপনার সাথে থাকেন, তখন কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। 
 
 
(১৯)
দয়ালু হোন, যেমন তোমার পিতাও দয়ালু।
 
 
(২০)
আমি আছি তোমারসাথে, চিন্তা কেন ?
 তোমারা একবার ডাকো, দেখবে আমার সাড়া পাবে। 
 
 
 
গুডফ্রাইডে কেন পালন করে (Good Friday) সমন্ধে জেনে ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আপনারা ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। সদাসর্বদা (Aamar bangla)সাথে থাকুন, নিয়মিত আপডেট পেতে। 
 
 

ধন্যবাদ 🙏🙏🙏💙💚💛
 

ভালো লাগলে আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করতে পারেন !

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top